আমেরিকায় পাবলিক হেলথে মাস্টার্স/ পিএইচডি ডিগ্রির জন্য কি করবেন?

এম বি বিএস শেষ করে আমেরিকায় কিভাবে পাবলিক হেলথে পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি করা যায়- প্রায়শই এমন প্রশ্ন করে অনেক শিক্ষার্থী ইনবক্স করেন। আন্ডারগ্র্যাড শেষ করে বিদেশে, স্পেশালি আমেরিকাতে যে হারে ইন্জিনিয়ারিং বা অন্য অনেক সাবজেক্ট থেকে স্টুডেন্টদের পোস্টগ্র্যাজুয়েশনে আসতে দেখা যায় সে তুলনায় ডাক্তারের সংখ্যা খুবই কম। পাবলিক হেলথ বা অন্য বেসিক সাবজেক্টে আগ্রহী হওয়া সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাবে অনেকেই আসতে ব্যর্থ হন। আজকের লেখাটি মূলত তাদের জন্যই।

মাথায় রাখতে হবে, যে সেমিস্টারে এনরোল হতে চান তার অন্তত দুই বছর আগে থেকে প্রসেস শুরু করতে হবে। কারণ বেশিরভাগ ইউনিভর্সিটিতে প্রায় একবছর আগে এপ্লিকেশন সাবমিট করতে হয়। আর তার জন্য প্রয়োজনীয় টেস্ট স্কোর ও অন্যান্য ডকুমেন্টস আগেই রেডি থাকতে হবে যার জন্য একবছর মতন সময় লাগে (শিক্ষার্থী বিশেষে সময় কম বেশি হতে পারে)।

আমাদের দেশে মেডিকেল কারিকুলাটি সেমিস্টার সিস্টেমে না হওয়ার কারণে এপ্লাইয়ের জন্য ট্রান্সক্রিপ্ট ইভ্যালুয়েশনের দরকার হয়। সহজ কথায় আপনার রেজাল্ট সিজিপিএ তে কনভার্ট করতে হয়। ইভ্যালুয়েশন করে এমন বেশ কয়েকটি অরগ্যানাইজেশন আছে, তারমধ্যে ডব্লিউ ই এস (WES) জনপ্রিয়। মূলত এই ধাপটিই ডাক্তারদের জন্য এপ্লাইয়ের প্রস্তুতিতে প্রথম ধাপ। যে ইউনিভার্সিটির আন্ডারে ডিগ্রী করেছেন যেমন যারা ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে সার্টিফিকেট পেয়েছেন তারা রেজিস্ট্রার বিল্ডিং থেকে কাজটি করতে পারবেন। সময় লাগে এভারেজে ২ মাস।

এই সময়ে ইউনিভার্সিটির একটি লিস্ট করে ফেলুন। US News Rankings এর জন্য খুবই উপকারী টুল। লিস্টটি high-ranked, mid ranked এবং low-ranked ইউনিভার্সিটি মিলিয়ে করুন। লিস্টের প্রতিটি ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটে গিয়ে এডমিশন রিক্যুয়ারমন্টস এবং এপ্লিকেশন ডেডলাইন নোট করে নিন। এতে করে আপনার কি কি টেস্ট ও ডকুমেন্টস কেমন সময়ের মধ্যে রেডি করতে হবে এই সম্পর্কে অগ্রিম ধারণা হবে।

এবার আসি ইউনিভার্সিটির জেনারেল রিক্যুয়ারমেন্টস প্রসঙ্গে। আপনার ট্রান্সক্রিপ্টের সাথে জিআরই এবং টোফেল/আইইএলটিএস স্কোর জমা দিতে হয়। তাই টেস্টগুলো কমপ্লিট করে ফেলতে হবে সময়মত। সেই সাথে স্টেটমেন্ট অব পারপাস ও কমপক্ষে তিনটি রিকমেন্ডেশন লেটার অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন ফরমের সাথে সাবমিট করতে হয়।

মাস্টার্স/পিএইচডির ফান্ডিং আসে মূলত টিচিং অথবা রিসার্চ এসিস্ট্যান্টশিপ থেকে যা বেশ কম্পিটিটিভ। এপ্লাইয়ের আগে পছন্দের এরিয়াতে কাজ করছেন এমন প্রফেসরদের সাথে ইমেইলে যোগাযোগের মাধ্যমে ফান্ডিং ম্যানেজের চেষ্টা করতে পারেন।

আরও কিছু তথ্য-
* এপ্লাইয়ের সময় আপনার প্রোফাইল অনুযায়ী ইউনিভার্সিটি চুজ করুন। মনে রাখা ভাল ওভারঅল প্রোফাইলের ভিত্তিতে ইউনিভার্সিটিগুলোতে এডমিশন দেয়া হয়, শুধুমাত্র সিজিপিএ বা জিআরই স্কোরের ভিত্তিতে নয়। রিসার্চ বা টিচিং এক্সপেরিয়েন্স এক্ষেত্রে ভাল ভূমিকা রাখে।

* উপরে উল্লিখিত পদ্ধতিতে পাবলিক হেলথসহ অন্য বেসিক সাবজেক্টগুলোতেও (ফিজিওলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, মাইক্রোবায়োলজী ইত্যাদি) এডমিশন নেয়া যায়।
* শুধু এমবিবিএস নয় অন্য অনেক রিলেটেড সাবজেক্ট থেকেও একইভাবে এপ্লাই করা যাবে।

* রিসার্চের এক্সপেরিয়েন্স বেশ ইম্পরট্যান্ট একটি ফ্যাক্টর কিন্তু ম্যান্ডেটরি নয়। রিসার্চের এক্সপেরিয়েন্স না থাকলে মাস্টার্সে এপ্লাই করা ভাল তবে সেক্ষেত্রে ফান্ডিং পাওয়াটা বেশ চ্যালেন্জিং। সাধারণত পিএইচডিতে ফান্ডিংয়ের সুযোগ বেশি থাকে।

পুরো প্রক্রিয়াটি বেশ সময়সাপেক্ষ এবং চ্যালেন্জিং। তবে ধৈর্য্যের সাথে লেগে থাকলে সফলতা আসবেই। সকলের জন্য শুভকামনা।

 

রিফাত বিনতে আলম
এমবিবিএস, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ
এম এস, কমিউনিটি হেলথ (এপিডেমিওলজি), ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা শ্যাম্পেইন, ইউএসএ
পিএইচডি স্টুডেন্ট, কমিউনিটি হেলথ (এপিডেমিওলজি), ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা শ্যাম্পেইন, ইউএসএ

5/5 (1)