পি এইচ ডি রিসার্চ প্রপোজাল । কিভাবে শুরু টা করলে ভাল হয়?

অনেক দিন ধরে এইটা লিখব ভাবছিলাম। কারন আমি যখন শুরু করি আমার কাছে সহজ কোন গাইডলাইন ছিল না। কিন্তু একেবারে প্রথম এ একটা সহজ গাইডলাইন হলে ভাল হয়। তাই আমি চেষ্টা করব খুব্বি সহজ ভাবে লিখতে যাতে প্রাথমিক ভাবে বোঝা টা সহজ হয়। এটা তে বিজনেছ আর সোশ্যাল সায়েন্স এর স্টুডেন্টস রা বেশি উপকৃত হবে হয়ত। আবার নাও হতে পারে।

বিষয় টা হল পি এইচ ডি রিসার্চ প্রপোজাল। কিভাবে শুরু টা করলে ভাল হয়।

প্রথম এই মাথায় থাকতে হবে যে সুপারভাইজর কে বোঝাতে হবে যে আপনি পারবেন। এখন আপনি কিছু ই জানেন না, কিন্তু কিছু ব্যাপার এবং key words আছে যা কি না সুপারভাইজর কে নাড়া দিবে যে আপনাকে দিয়ে তার কাজ হবে, আপনি যে করে ই হোক- পি এইচ ডি শেষ করার মত effort দিবেন এবং শেষ করবেন। এর মধ্যে কিছু চালাকি হলঃ

১। Recent Journal Article এর নাম জানা এবং ওই খান থেকে কিছু গবেষণা আপনি পড়েছেন- এইটা আপনার রিসার্চ প্রপোজাল এ এবং আপনার PhD admission & scholarship viva তে নিজ দায়িত্বে জানিয়ে দেওয়া, লিখার কোন এক ফাঁকে in-text citations এর মাধ্যমে বা ভাইভা তে কথা বলার মাঝে। এতে করে প্রফেসর বুঝবে যে – আপনি দুনিয়া দারির খবর রাখেন। তখন প্রফেসর আপনার মধ্যে সম্ভাবনা দেখতে পাবে। আপনার পি এইচ ডি- তে যদি প্রফেসর কে আপনার চেয়ে বেশি effort দিতে হয়, সেক্ষেত্রে প্রফেসর আপনাকে নেওয়ার জন্য আগ্রহ টা কম দেখাতে পারে। আবার বেশি ফটর ফটর করা যাবে না, কাজের কথা গুছিয়ে, লিখতে হবে এবং বলতে হবে। Smartly deal করতে হবে সম্পূর্ণ ব্যাপার টা।

২। Reference & in-text citations প্রপোজাল এ ভাল ভাবে দিতে হবে, প্রয়োজন অনুযায়ী। এই দুই জিনিস লিখার নির্ধারিত নিয়ম আছে। বিজনেছ এর স্টুডেন্টস রা Harvard Reference System বা APA follow করতে পারে। গুগুল এ এই দুই সিস্টেম এর ই অসংখ্য নমুনা আছে। একবার চোখ বুলালেই হবে।

৩। যদি ইংরেজি ভাষার দেশ এর কোন প্রফেসর কে প্রপোজাল টা পাঠাতে চান, সে ক্ষেত্রে প্রপোজাল এর ভাষা গুলো একটু প্রুফ রিড করিয়ে নেওয়া ভাল হবে। কাউকে ভাল না পেলে, প্রফেশনাল কাউকে দিয়ে করানো যেতে পারে। দুই/তিন হাজার শব্দের এর প্রুফ রিড করতে খরচ বেশি হবে না। এখন এই গুলা খুব available এবং এই প্রুফ রিড allowed. তাই ভয় পাবার কোন ই কারন নেই।

৪। আর যখন অনলাইন এ আপনার ভাইভা নিবে তখন শুধু ই তার কথা বুঝে উত্তর দিতে পারলে ই হল। আপনার ইংরেজি খুব ভাল না হলে ও কোন সমস্যা নাই। কিন্তু তার কথা বুঝতে হবে এবং আপনার বলার গ্রামার সঠিক থাকতে হবে। আর কিছু না। তাই এই ক্ষেত্রে listening এবং আপনার বলার grammar টার দিকে নজর দিতে হবে। Please do not think about your accent or pronunciation. প্রাথমিক পর্যায়ে সুপারভাইজর এটা প্রত্যাশা করে না।

৫। প্রপোজাল এর একটা মোটামুটি ফরম্যাট হল – title, abstract, introduction, statement of objectives, analysis of literature, research methodology, research plan, budget estimations, research team particulars, funding source, co-worker acknowledgments, and references। আর এই order টা বজায় রাখা টা ভাল।

৬। Research methodology part টা অঙ্কের মত। পুরা টা ই সূত্র। যখন আপনি লিখা শুরু করবেন তখন বুঝতে পারবেন। কোনটার পর কোনটা আসবে এটা crystal clear. তাই এইটা ঠিক রাখতে হবে। আপনার টপিক রিলেটেড জার্নাল আর্টিকেল পড়লে ই বুঝতে পারবেন। পাশাপাশি যারা অলরেডি পি এইচ ডি করছে তাদের সাথে জাস্ট কোনটার পর কোন টা দিয়েছেন – মিলিয়ে নিবেন। মনে রাখবেন – এই পার্ট থেকে বেশি প্রশ্ন করবে বা এই পার্ট টা ই হয়ত আসল। কারন, পি এইচ ডি শুরু হলে literature review/aims/objectives সব পরিবর্তন হয়ে যাবে। সুপারভাইজর তা জানে। তাই তার literature review/aims/objectives নিয়ে মাথা ব্যাথা ওই স্টেজ এ থাকবে না। শুধু তিনি দেখতে চাইবে যে methodology part এ আপনার দক্ষতা টুকু কেমন। কাজ চালানো যাবে কি না। আর methodology part একটা অঙ্ক এর মত। চিন্তার কিছু নাই। এক সপ্তাহ শুধু এই methodology part টার উপর পড়াশোনা করলে ই কাজ হবে। কিন্তু of course recent journal article পড়ে ই সঠিক টা লিখতে হবে।

৭। Research objectives/aims of course research title কে reflect করতে হবে।

৮। Recent journal article এর উৎস হলাম আমরা, যারা কি না এখন দেশ এর বাইরে পড়াশুনা করছি। আমাদের কে ইনবক্স করবেন বা ইমেইল করবেন। আমাদের কাছে more or less সব গুলার ই access আছে। আমরা পাঠিয়ে দিব। মিনিমাম ২০/২৫ টা পড়ে একটা ২০০০/৩০০০ শব্দের একটা পি এইচ ডি রিসার্চ প্রপোজাল লিখে ফেলেন। রিসার্চ টপিক আপনার উপর নির্ভর করবে। সুপারভাইজর এর উপর নির্ভর করবে। সুপারভাইজর এর পছন্দের বিষয় ওয়েব সাইট এ available থাকার কথা। ওইটা নিয়ে একটু পড়াশুনা করলে ই একটা তাৎপর্যপূর্ণ টপিক পাওয়া যাবে।

৯। ফান্ড দেখে apply করতে হবে। এই জন্য সব সময় খেয়াল রাখতে হবে যে কখন ফান্ড আসে, প্রজেক্ট আসে, কি টপিক এ আসে, ওই টপিক এ আপনি কিছু করতে পারবেন কি না। তারপর কিছু পড়াশুনা করে প্রপোজাল লিখা সম্ভব।

১০। ভুল এ ও কপি আর পেস্ট করতে যাবেন না। প্রপোজাল সফটওয়ার এ পরীক্ষা করে দেখে নেওয়া হয়, প্লাজারিজম আছে কি না। Careful!

লেগে থাকেন, হবে ই হবে। পি এইচ ডি করবেন ভেবেছেন মানে আপনি কিন্তু অলরেডি অর্ধেক রেডি, বাকি শুধু আছে থিসিস লিখা আর ডিফেন্স ফেস করা।

Good luck! May Allah bless you.

নিগার সুলতানা ,
পি এইচ ডি শিক্ষার্থী,
ম্যানচেস্টার মেট্রপলিটান ইউনিভারসিটি,
ইউ কে

5/5 (6)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *