IELTS প্রবচন ০৫

IELTS প্রবচন ০৫ :
IELTS প্রবচনের গত পর্বে রাইটিং অংশের টাস্ক ১ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল. আজকের আলোচনার বিষয় হচ্ছে টাস্ক ২.
IELTS টাস্ক ২ এর রাইটিং পার্টটি মূলত একটি argumentative writing.

Argumentative writing বলতে এমন ধরনের রাইটিংকে বোঝায় যাতে আপনি মূলত কোনো একটি পক্ষ নিয়ে একটি বিষয় কিংবা ধারণা সম্পর্কে কথা বলেন. এই ক্ষেত্রে আপনি দুটি পক্ষের যে কোনো একটি নিতে পারেন – পক্ষে কিংবা বিপক্ষে.
সাধারণত কোনো কিছুর পক্ষে বলতে গেলে আমরা হরহামেশাই কিছু উদাহরণ টেনে নেই. যেমন ধরুন – আপনি আপনার ছোট ভাই কিংবা বোনকে বিজ্ঞান কিংবা ব্যবসায় শিক্ষার মধ্যে কোনটি নিয়ে পড়লে ভালো হবে তার কথা বলছেন. আপনার কাছে বরাবরই ব্যবসায় শিক্ষা ভালো লাগে তাহলে আপনি ব্যবসায় শিক্ষা নিয়ে পড়লে কি কি সুবিধা পাওয়া যাবে তা বললেন আবার সাথে ব্যবসায় শিক্ষায় পড়ে সফল হয়েছে আশেপাশের এমন কয়েক জনের উদাহরণ দিবেন. আবার পাশাপাশি কিছু কারণ দেখাবেন যার জন্য আপনি তাকে বিজ্ঞান নিয়ে পড়ার কথা বলেন নি.

এখন IELTS এর টাস্ক ২ তে মূলত এই জিনিসটিই আমাদের করতে হবে তবে কিছু নিয়ম মেনে. IELTS এর এই রাইটিং টাস্কটিতে একটি টপিকের দুটি ভিন্ন পক্ষ কিংবা মতামত দেয়া থাকতে পারে. কিংবা একটি বিষয়ের পক্ষে ও বিপক্ষে দুটি মন্তব্য দেয়া থাকতে পারে. এই ধরণের লিখার জন্য নিচের স্ট্রাকচারটি অনুসরণ করতে হবে –

১. এই ধরণের লিখা ৪ টি মূল প্যারা করে লিখতে হবে.
২. একদম প্রথমে শুরু করবেন ইন্ট্রোডাকশন (introduction) দিয়ে. এই ইন্ট্রোডাকশনটি হবে প্রদত্ত প্রশ্নের আলোকে. ২-৪ লাইনের মধ্যে এই ইন্ট্রোডাকশন আপনাকে লিখতে হবে. পাশাপাশি আপনি কোন পক্ষে আছেন তার কথা লিখতে হবে। লিখার স্যাম্পল এর জন্য Khan’s IELTS Writing বইটি দেখলে ভালো হয়.
৩. দ্বিতীয় প্যারাতে কেন আপনি পক্ষটি সিলেক্ট করলেন তার পিছনের কারণ বর্ণনা করতে হবে। এই বর্ণনা লিখার সময় আপনাকে একই শব্দের অনেক রকম শব্দ এবং বাক্যের ব্যবহার করে লিখতে হবে আপনার লিখার মধ্যে বৈচিত্র আনার জন্য.
৪ . তৃতীয় প্যারাতে বলতে হবে আপনার ঠিক করা পক্ষটি ছাড়াও অনেকে অপরপক্ষকে কেন সাপোর্ট করেন তার একটু সংক্ষিপ্ত বর্ণনা।
৫ . সবশেষে একটি conclusion দিতে হবে ২ থেকে ৩ লাইনের মধ্যে. Conclusion লিখতে হবে মূলত ইন্ট্রোডাকশন এবং বর্ণনার আলোকে.
৬ . IELTS এর রাইটিং সেক্শনে কোনোদিনও ভারী শব্দ ব্যবহার করবেন না. সাধারণভাবে লিখবেন প্রশ্নের আলোকে. মনে রাখবেন, simple is beautiful.
৭. লিখাটি ২৫০ শব্দের মধ্যে হতে হবে. এই কথাটি সবচেয়ে বেশি কার্যকরী IELTS এর রাইটিং সেক্শনে. কারণ যারা আপনার লিখা চেক করবেন তাদের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে আপনি কোনো কিছুর পক্ষ নিয়ে ভালো করে তা লিখতে পারেন. তারা কোনোদিনই কিন্তু আপনার পান্ডিত্য দেখতে চায় না.

মোটামুটি উপরের স্ট্রাকচার মেনে লিখলে আপনি রাইটিং সেক্শনে ভালো করার আশাবাদী হতে পারেন.
IELTS এর রাইটিং টাস্ক ১ এবং টাস্ক ২ আপনাকে ভালো করে অনুশীলন করতে হবে. প্রতিদিন আধা পৃষ্ঠা থেকে ১ পৃষ্ঠা লেখার চেষ্টা করবেন. রিয়েল প্রশ্নের ধরণ জানার জন্য ক্যামব্রিজের এর বইগুলোর রাইটিং অংশ দেখবেন. আর রাইটিং লেখার যাবতীয় কিছুর জন্য দেখবেন Khan’s IELTS Writing Flash বইটি. যাদের ভোকাবুলারি নিয়ে সমস্যা আছে তারা IELTS Vocabulary and Reading Practice by S.M. Zakir Hussain বইটি দেখতে পারেন.
IELTS এর রাইটিং সেকশন এ ভালো করতে হলে আপনার ইচ্ছা এবং চেষ্টা এই দুটোই থাকতে হবে. ইচ্ছা হবে যেকোনো ভাবে রাইটিং সেক্শনে ভালো করা. আর চেষ্টা করতে হবে প্রতিদিন অনুশীলনের মাধ্যমে. রাইটিং এর টাস্ক ১ এবং টাস্ক ২ পার্টটির জন্য আপনাদের অনেক অনুশীলনের দরকার আছে. মূলত আগেও আমি IELTS এর পোস্টে বলছি যে IELTS পরীক্ষা দেয় এমন পরীক্ষার্থীদের দুইটি ভাগ আছে –

যাদের বেসিক ভালো এবং যাদের বেসিক ভালো নয়.
যাদের বেসিক ভালো তারা প্রথমেই শুরু করবেন Khan’s IELTS Series দিয়ে. খানের বইগুলো থেকে প্রশ্নের উত্তর প্রদানের কৌশল শিখে অনুশীলন করবেন ক্যামব্রিজের বইগুলো থেকে. যাদের মোটামুটি ইংলিশের বেসিক ভালো তাদের জন্য প্রথম থেকেই এমন করে প্রাকটিস করতে হবে প্রতিদিন এবং কমপক্ষে ২ মাস.
আর যাদের গ্রামার এবং ভোকাবুলারি নিয়ে সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য প্রথমে দরকার গ্রামার ঠিক করা এবং ভোকাবুলারি ঠিক করা.

তারপর তাদের কাজ হবে দৈন্দন্দিন জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর ইংলিশ অনুবাদ করা. এই রকম প্রথম ২ মাস করতে হবে.
তারপর পরের ২ মাস উপরের নিয়ম মেনে অনুশীলন করতে হবে. গ্রামার এবং ভোকাবুলারি নিয়ে কথাবার্তা IELTS প্রবচন ১ থেকে ৩ পর্বগুলোতে করা হয়েছে.

সরাসরি IELTS এর গ্রামার নিয়ে পড়তে চাইলে বইটি Pre-IELTS Grammar by S.M. Zakir Hussain দেখতে পারেন.
আবার গ্রামারের একদম বেসিক থেকে জানতে হলে A Passage to the English Language by S.M. Zakir Hussain কিংবা Analytical English Grammar by S.M. Zakir Hussain বইটি দেখতে হবে. পাশাপাশি ভোকাবুলারিও পড়তে হবে.
আর সবচেয়ে ভালো হয় যদি একজন মেন্টর ঠিক করতে পারেন. যার কাজ হবে আপনার রাইটিংগুলো দেখে দেয়া এবং ভুল শুধরে দেয়া. কারণ ভুল হবেই এটাই স্বাভাবিক কিন্তু ভুলকে ঠিক করতে হবে. আর এই ক্ষেত্রে একজন মেন্টরই আপনাকে ভালো পথের সন্ধান দিতে পারবে.

ভালো থাকুন, নিরাপদে থাকুন.
আর অন্যায়কে সর্বদা না বলুন. একে অন্যের সাহায্য করুন.

নূর-আল-আহাদ
বিবিএ (ইউনিভার্সিটি অফ ঢাকা) ১৪ তম ব্যাচ
এমবিএ (ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়া)
ফিনান্সিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং গবেষক (জাপান)
(Acquiring knowledge does not have a full-stop, rather it always has comma – Ahad)

5/5 (3)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *