IELTS প্রবচন ০৪

IELTS প্রবচন ০৪
IELTS পরীক্ষার রাইটিং সেকশন (writing section) নিয়ে অনেকেরই অনেক রকমের কথাবার্তা থাকে. আর রাইটিং বিষয়টি এমনই যেখানে সহজে ভালো স্কোর করার তেমন কোনো শর্টকাট নেই. কিন্তু বেশকিছু কৌশল অবলম্বন করলে IELTS এর রাইটিং সেক্শনেও ভালো করা যায়. IELTS পরীক্ষার একাডেমিক ভার্শনে (IELTS- Academic) দুই ধরণের রাইটিং থাকে – data analysis type writing এবং essay type writing.

আজকের আলোচনার বিষয় হচ্ছে ডাটা এনালাইসিস টাইপ রাইটিং (data analysis type writing). ডাটা এনালাইসিস টাইপ রাইটিং (data analysis type writing) এ মূলত একটি গ্রাফ (graph) কিংবা ফিগার (figure)দেয়া থাকবে, যার বর্ণনা আপনাকে নিজের ভাষায় দিতে হবে. এ ক্ষেত্রে অনেক রকমের গ্রাফ কিংবা ফিগার থাকতে পারে যেমন লাইন গ্রাফ, বার/কলাম গ্রাফ, পাই চার্ট, টেবিল, সিকোয়েন্স অফ ইভেন্টস কিংবা কোনো কিছুর পিক্টোরিয়াল প্রেসেন্টেশন. এই ধরণের রাইটিং এর ক্ষেত্রে আপনাকে লিখতে হবে সিকোয়েন্স করে. পাশাপাশি প্রদত্ত তথ্যের আলোকে আপনাকে কিছু comparison কিংবা তুলনামূলক আলোচনা করতে হবে আপনার লিখায়.

ধরুন, প্রশ্ন দেয়া আছে বিভিন্ন সালের জনসংখ্যা এবং মাথাপিছু আয়. তাহলে আপনার লিখার সময় আপনাকে বিভিন্ন সালের মধ্যে জনসংখ্যা এবং মাথাপিছু আয়ের মধ্যে কি রকম পরিবর্তন হয়েছে তার বর্ণনা দিতে হবে.
এই ধরণের লিখার জন্য নিচের স্ট্রাকচারটি অনুসরণ করতে হবে –

১. এই ধরণের লিখা ৩টি মূল প্যারা করে লিখতে হবে.
২. একদম প্রথমে শুরু করবেন ইন্ট্রোডাকশন (introduction) দিয়ে. এই ইন্ট্রোডাকশনটি হবে প্রদত্ত প্রশ্নের আলোকে. ২ লাইনের মধ্যে এই ইন্ট্রোডাকশন আপনাকে লিখতে হবে. লিখার স্যাম্পল এর জন্য Khan’s IELTS Writing বইটি দেখলে ভালো হয়.
৩. দ্বিতীয় প্যারাতে আপনাকে প্রশ্নে প্রদত্ত ফিগার কিংবা গ্রাফের বর্ণনা দিতে হবে নিজের ভাষায়. বর্ণনাটি হবে ধারাবাহিক এবং তুলনামূলক. এই বর্ণনা লিখার সময় আপনাকে একই শব্দের অনেক রকম সমার্থক শব্দ ব্যবহার করে লিখতে হবে আপনার লিখার মধ্যে বৈচিত্র আনার জন্য.
৪. সবশেষে একটি conclusion দিতে হবে ১ থেকে ২ লাইনের মধ্যে পুরো গ্রাফ কিংবা ফিগার টির উপর. Conclusion লিখতে হবে মূলত ইন্ট্রোডাকশন এবং বর্ণনার আলোকে. Conclusion লিখার সময় আপনাকে বলতে হবে কোন মূল বিষয়টি সবচেয়ে দৃষ্টিগোচর হয়েছে প্রদত্ত ফিগার কিংবা গ্রাফে.
৫. IELTS এর রাইটিং সেক্শনে কোনোদিনও ভারী শব্দ ব্যবহার করবেন না. সাধারণভাবে লিখবেন প্রশ্নের আলোকে. মনে রাখবেন, simple is beautiful. এই কথাটি সবচেয়ে বেশি কার্যকরী IELTS এর রাইটিং সেক্শনে. কারণ যারা আপনার লিখা চেক করবেন তাদের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে আপনি কোনো জিনিস দেখে তার ভালো এবং সঠিক বর্ণনা দিতে পারেন না. তারা কোনোদিনই কিন্তু আপনার পান্ডিত্য দেখতে চায় না.
মোটামুটি উপরের স্ট্রাকচার মেনে লিখলে আপনি রাইটিং সেক্শনে ভালো করার আশাবাদী হতে পারেন. পরীক্ষা কিংবা নিজের অনুশীলনের সময় রাইটিং টাস্ক ১ এর প্রশ্ন পড়ার পরই নিচের চেকলিস্টটি (checklist) ধরে লিখলে ভালো ফল পাবেন-

১. কি বিষয় (what is it about) – প্রশ্নে প্রদত্ত ফিগার কিংবা গ্রাফে কি বিষয় নিয়ে কথা বলা হয়েছে. এই বিষয়টি আপনাকে প্রথম প্যারা লিখতে সাহায্য করবে.
২. কি কি হয়েছে (what has been covered or discussed)- এই পর্যায়ে আপনাকে দেখতে হবে প্রশ্ন দেয়া ফিগার কিংবা গ্রাফের মধ্যে কি রকম সম্পর্ক আছে. সম্পর্ক বলতে মূলত এখানে আপনাকে দেখতে হবে গ্রাফ কিংবা ফিগারের কোন কোন ক্ষেত্রে কি রকম পরিবর্তন হয়েছে. এই বিষয়টি আপনাকে দ্বিতীয় প্যারা ভালো করে লিখতে সাহায্য করবে.
৩. কি ফুটে এসেছে (what is the main or key point) – একটি ফিগার কিংবা গ্রাফে অনেক কিছুই দেয়া থাকে. কিন্তু সব থেকে প্রয়োজনীয় পয়েন্ট কিংবা observation থাকে একটি কিংবা দুটি. এই পর্যায়ে তাই আপনাকে চিন্তা করতে হবে আপনার বর্ণনার আলোকে যে কোন বিষয়টি সবচেয়ে বেশি ফুটে এসেছে প্রশ্নে প্রদত্ত ফিগার কিংবা গ্রাফের মধ্যে. ভালো লিখা একটি আর্ট. আর যে কোনো আর্টে আপনি ভালো করতে পারবে যদি আপনার মধ্যে ইচ্ছা এবং চেষ্টা থাকে. IELTS এর রাইটিং সেকশন এ ভালো করতে হলে আপনার ইচ্ছা এবং চেষ্টা এই দুটোই থাকতে হবে. ইচ্ছা হবে যেকোনো ভাবে রাইটিং সেক্শনে ভালো করা. আর চেষ্টা করতে হবে প্রতিদিন অনুশীলনের মাধ্যমে. রাইটিং এর টাস্ক ১ পার্টটির জন্য আপনাদের অনেক অনুশীলনের দরকার আছে. মূলত আগেও আমি IELTS এর পোস্টে বলছি যে IELTS পরীক্ষা দেয় এমন পরীক্ষার্থীদের দুইটি ভাগ আছে – যাদের মোটামুটি ইংলিশের বেসিক ভালো তাদের জন্য প্রথম থেকেই এমন করে প্রাকটিস করতে হবে প্রতিদিন এবং কমপক্ষে ২ মাস.
আর যাদের গ্রামার এবং ভোকাবুলারি নিয়ে সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য প্রথমে দরকার গ্রামার ঠিক করা এবং ভোকাবুলারি ঠিক করা. তারপর তাদের কাজ হবে দৈন্দন্দিন জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর ইংলিশ অনুবাদ করা. এই রকম প্রথম ২ মাস করতে হবে. তারপর পরের ২ মাস উপরের নিয়ম মেনে অনুশীলন করতে হবে. গ্রামার এবং ভোকাবুলারি নিয়ে কথাবার্তা IELTS প্রবচন ১ থেকে ৩ পর্বগুলোতে করা হয়েছে.

আর সবচেয়ে ভালো হয় যদি একজন মেন্টর ঠিক করতে পারেন. যার কাজ হবে আপনার রাইটিংগুলো দেখে দেয়া এবং ভুল শুধরে দেয়া. কারণ ভুল হবেই এটাই স্বাভাবিক কিন্তু ভুলকে ঠিক করতে হবে. আর এই ক্ষেত্রে একজন মেন্টরই আপনাকে ভালো পথের সন্ধান দিতে পারবে.

ভালো থাকুন, নিরাপদে থাকুন.
আর অন্যায়কে সর্বদা না বলুন. একে অন্যের সাহায্য করুন.

নূর-আল-আহাদ
বিবিএ (ইউনিভার্সিটি অফ ঢাকা) ১৪ তম ব্যাচ
এমবিএ (ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়া)
ফিনান্সিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং গবেষক (জাপান)
(Acquiring knowledge does not have a full-stop, rather it always has comma – Ahad)

5/5 (2)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *