IELTS প্রবচন ০৩:

IELTS প্রবচন ০৩:
IELTS এর রাইটিং সেকশনটি নিয়ে আমাদের সবার মনেই ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা রয়েছে। অনেক রকম কথাও প্রচলিত আছে।
IETLS এর রাইটিং এ ভালো করতে হলে মূলত রাইটিং বিষয়টি নিয়ে আমাদের কিছু ব্যাকগ্রাউন্ড কাজ করতে হবে।
IELTS এর রিডিং এবং লিসেনিং এ অনেকে সময় দিলেও রাইটিং এবং স্পিকিং এর উপর আসলেই তেমন একটা সময় দেয়া হয় না। রাইটিং এ ভালো করতে হলে প্রথমেই যে বিষয়টি প্রয়োজন তা হলো ইংলিশ গ্রামার এবং কিছু ভোকাবুলারি জানা।
IELTS এর জন্য যে লেভেলের গ্রামার এবং ভোকাবুলারি জানা প্রয়োজন তার মোটামুটি প্রস্তুতি কিন্তু আমাদের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় হয়ে যাবার কথা।কিন্তু অনেকের তারপরও গ্রামার এবং ভোকাবুলারি নিয়ে দুর্বলতা থাকতে পারে।

গ্রামারের জন্য A Passage to the English Language by S.M. Zakir Hussain দেখা যেতে পারে।আর ভোকাবুলারির জন্য IELTS Vocabulary and Reading Practice by S.M. Zakir Hussain দেখা যেতে পারে।
এই দুইটি বই পড়লে IELTS রাইটিং এর জন্য মোটামুটি একটি ভালো ব্যাকগ্রাউন্ড তৈরী হয়ে যাবে। এছাড়াও আরো কিছু কাজ করতে হবে। রাইটিং এ ভালো করতে হলে আগে আমাদের দেখতে হবে যে আমরা আমাদের দৈন্দন্দিন জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোকে ইংলিশে লিখতে পারছি কিনা।

ধরুন, আপনি সারাদিন অনেক কাজই করেন এবং অনেক ঘটনা ঘটে আপনার জীবনে কিংবা আশেপাশে।আপনার কাজ হবে এই সব ঘটনাগুলো থেকে একটি কিংবা দুইটি ঘটনা ঠিক করে কমপক্ষে ৩-৫টি লাইন ইংলিশে লিখার। এখন আপনার এই লিখায় ভুল হবেই, এইটাই স্বাভাবিক ।কিন্তু এই ভুলটাকে জানার জন্য আপনাকে একজন মেন্টর ঠিক করতে হবে। যার কাজ হবে, আপনার লিখাগুলোর কারেকশন করে দেয়া। তাহলেই আপনি শিখতে পারবেন।

এভাবে আস্তে আস্তে প্রাকটিস করার ১ মাস পর থেকে শুরু করতে হবে IELTS এর রাইটিং এর মূল টাস্ক। মনে রাখবেন, আপনাকে অবশ্যই প্রতিদিন ১ পেজ করে ইংলিশে লিখতে হবে। তাহলেই রাইটিং এ উন্নতি আসবে। IELTS পরীক্ষায় মূলত ২ ধরণের রাইটিং টাস্ক থাকে। প্রথমটিতে কিছু গ্রাফ কিংবা ফিগার থাকে যার বর্ণনা আপনাকে দিতে হয়। আর শেষটি মূলত আর্গুমেন্টিভ টাইপ রাইটিং যে খানে কোনো বিষয়ের উপর আপনাকে পক্ষে কিংবা বিপক্ষে হয়ে লিখতে হয়। রাইটিং এর জন্য Cambridge এর প্রশ্নগুলো সমাধান করলেই হবে। ভালো অনুশীলন এবং কিছু ভালো লিখার স্যাম্পল শেখার জন্য Khan’s IELTS Writing বইটিও দেখতে হবে।

রাইটিংর প্রথম টাস্কটি (first task) ৩ প্যারা করে লিখতে হবে। প্রথম প্যারাতে আপনাকে প্রদত্ত প্রশ্নের উপর ২টি লাইন লিখতে হবে। দ্বিতীয় প্যারাতে, আপনাকে প্রদত্ত ফিগার কিংবা গ্রাফটির বর্ণনা দিতে হবে। সবশেষে তৃতীয় প্যারাতে একটি ছোট কনক্লুশন (conclusion) দিতে হবে। রাইটিং এর শেষ টাস্কটির জন্য ৪ প্যারা করে লিখতে হবে। প্রথম প্যারাতে টপিক এর একটি শর্ট ইন্ট্রোডাকশন (short introduction) দিতে হবে এবং আপনি কোন পক্ষে আছেন তার কথা লিখতে হবে। দ্বিতীয় প্যারাতে কেন আপনি পক্ষটি সিলেক্ট করলেন তার পিছনের কারণ বর্ণনা করতে হবে। তৃতীয় প্যারাতে বলতে হবে আপনার ঠিক করা পক্ষটি ছাড়াও অনেকে অপরপক্ষকে সাপোর্ট করেন তার একটু শর্ট বর্ণনা। সবশেষে চতুর্থ প্যারাতে আপনাকে কনক্লুশন (conclusion) দিয়ে লিখাটি শেষ করতে হবে

রাইটিং এর ক্ষেত্রে আরো একটি জিনিস হচ্ছে প্রতিটি লাইন বর্ণনা করতে synonym ব্যবহার করতে চেষ্টা করবেন। এতে কিছুটা হলেও লেখায় কিছুটা ভিন্নভাব আসবে যা ভালো দেখাবে। আর IELTS এর রাইটিং টাস্ক নিয়ে বেশি চিন্তা না করে নিয়মিত প্রাকটিস করবেন। রাইটিং এ ভালো করতে হলে আসলে অনুশীলনের বিকল্প নেই। নিজের উপর বিশ্বাস রেখে চেষ্টা করুন, সময় লাগবে, মাঝে মাঝে খারাপও লাগবে কিন্তু সাফল্য একদিন আসবেই। মনে রাখবেন, our efforts never betray us.

ভালো থাকুন, নিরাপদে থাকুন.
আর অন্যায়কে সর্বদা না বলুন. একে অন্যের সাহায্য করুন.

নূর-আল-আহাদ
বিবিএ (ইউনিভার্সিটি অফ ঢাকা) ১৪ তম ব্যাচ
এমবিএ (ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়া)
ফিনান্সিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং গবেষক (জাপান)

5/5 (3)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *