জিআরই

জি আর ই কি?
“গ্র্যাজুয়েট রেকর্ড এক্সামিনেশন (Graduate Record Examination)” –কে সংক্ষেপে বলা হয় “জি আর ই (GRE)”। এটি মূলতঃ এডুকেশনাল টেস্টিং সার্ভিস (ETS) –এর একটি রেজিস্টার্ড এডুকেশনাল ব্র্যান্ড, তাই একে লেখা হয় GRE®। আমেরিকার ভালো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে (ব্যাচেলর ডিগ্রির পর এমএস/ পিএইচডি প্রোগ্রাম) ভর্তির জন্য জি আর ই অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়।
জিআরই অফিসিয়াল সাইট:জিআরই অফিসিয়াল সাইট লিংক
বিষয় বিত্তিক জি আর ই ও সাধারণ জি আর ই
সাধারণত নিম্ন লিখিত আটটি বিষয়ের উপর বিষয়ভিত্তিক জি আর ই টেস্ট দেয়া যায়ঃ
১। প্রাণরসায়ন (Biochemistry), কোষ এবং আণবিক জীববিজ্ঞান (Cell and Molecular Biology)
২। জীববিজ্ঞান (Biology)
৩। রসায়ন (Chemistry)
৪। কম্পিউটার সাইন্স
৫। ইংরেজি সাহিত্য (Literature in English)
৬। গণিত (Mathematics)
৭। পদার্থ বিজ্ঞান (Physics)
৮। মনোবিজ্ঞান (Psychology)যে কেউ চাইলে এর যেকোনো বিষয়ের উপর বিষয় ভিত্তিক জি আর ই টেস্ট দিতে পারবে। আর সাধারণ জি আর ই –এর অন্তর্ভূক্ত বিষয়গুলো হল, ভার্বাল রিজোনিং (Verbal Reasoning), কোয়ান্টিটেটিভ রিজোনিং (Quantitative Reasoning) এবং এনালাইটিক্যাল রাইটিং স্কিলস (Analytical Writing Skills)। সাধারণ জি আর ই টেস্টের জন্য নির্ধারিত এই বিষয়গুলো সকলের জন্য একই রকমের হবেঃ
ভার্বাল রিজোনিং (Verbal Reasoning):
এই টেস্টের মাধ্যমে দেখা হবে পরীক্ষার্থীর ইংরেজী শব্দ ও বাক্যের উপর দক্ষতা কত। ইংরেজীতে আর্টিকেল লেখা থাকবে, সেই আর্টিকেলের বিষয়বস্তুগুলোকে (বাক্য) বিভিন্ন ভাগে ভাগ করতে হবে, এরপর প্রতিটি ভাগকে বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন করতে হবে (শব্দগুলোর সাথে বিষয়বস্তুর সম্পর্ক বের করতে হবে)।
কোয়ান্টিটেটিভ রিজোনিং
(Quantitative Reasoning): এই অংশকে ম্যাথ সেকশনও বলা হয়।এই টেস্টের মাধ্যমে দেখা হবে পরীক্ষার্থীর গাণিতিক মৌলিক ধারনা এবং পরিমাণগত বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে বীজগণিত, জ্যামিতি ও তথ্য বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা।
এনালাইটিক্যাল রাইটিং স্কিলস (Analytical Writing Skills): এই টেস্টের মাধ্যমে দেখা হবে পরীক্ষার্থীর যে কোনো ধরনের জটিল সমস্যা স্পষ্টভাবে ও সকল বিষয়াদি বিবেচনাধীন রেখে সমাধান করা। এই সমাধান পরিষ্কার ইংরেজীতে লিখতেও হবে।
বাংলাদেশে জি আর ই পরীক্ষাকেন্দ্র
আমেরিকান অ্যালামনাই এ্যাসোসিয়েশনবাসা নং- ১৪৫, রোড নং- ১৩বি, ব্লক- ই,বনানী, ঢাকা-১২১৩।টেলিফোনঃ (৮৮০-২) ৯৮৮১৬৬৯ফ্যাক্সঃ (৮৮০-২) ৯৮৮১৬৬৯
ই-মেইলঃ info@aaa.net.bd
সপ্তাহে তিন দিন এই পরীক্ষা কেন্দ্র বন্ধ থাকেঃ শুক্রবার, শনিবার ও রবিবার। বাকি চার দিন এখানে পরীক্ষা গ্রহন করা হয়।দুইটি সেশনে পরীক্ষা নেয়া হয়ঃ সকাল ৯.০০ মিনিটে এবং দুপুর ১.৩০ মিনিটে।নোটঃ দিনে দুইবার করে সপ্তাহে চার দিন পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ থাকলেও একজন পরীক্ষার্থী মাসে শুধু একবার এবং বছরে মাত্র পাঁচবার পরীক্ষা দিতে পারবেন। এর বেশি তাকে পরীক্ষা দিতে দেয়ার সুযোগ দেয়া হয় না।
জি আর ই করে আমেরিকা যেতে খরচের বিস্তারিতঃ (আনুমানিক)
জি আর ই রেজিস্ট্রেশন ফি = $ ১৮৫ (প্রায় ১৪,৮০০ টাকা)
টোয়েফেল রেজিস্ট্রেশন ফি = $ ১৫০ (প্রায় ১২,০০০ টাকা)
বিশ্ববিদ্যালয়ে (চারটিতে) আবেদন ফি = $ ২৫ X ৪ = $ ১০০ (প্রায় ৮,০০০ টাকা)
আবেদন পাঠানোর খরচ (চারটি ঠিকানায়) = ২,০০০ টাকা X ৪ = ৮,০০০ টাকা
সার্ভিস ফি = ১৬,০০০ টাকা
ভিসা ইন্টারভিউ ফি = ৯,০০০ টাকা
প্লেন ফেয়ার = ৭০,০০০ টাকা
মোট = ১,৩৭,৮০০ টাকা
এখানে যে খরচের চিত্র দেখানো হলো, বাস্ততে তার সাথে কিছু পার্থক্য হতে পারে। যেমন, প্লেনের টিকেটের দাম নির্ভর করে কোন সময়ে টিকেট কাটা হচ্ছে এবং কোন এয়ারলাইন্সে কাটা হচ্ছে। ভিসা ইন্টারভিউ ফি বর্তমানে কিছু বাড়ানো হয়েছে। আর সব খরচ মোটামুটি একই রকম।
জি আর ই পেয়িং সিস্টেম (চেকের মাধ্যমে)
জি আর ই সেন্টারের ঢাকা অফিস থেকে চেক সংগ্রহ করে কুরিয়ারের মাধ্যমে আপনার গন্তব্যস্থল-এ পাঠানো যায় অথবা অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে ইউএস অবস্থিত জি আর ই সেন্টারগুলোর মাধ্যমে নির্দিষ্ট ঠিকানায় পেমেন্ট পোঁছিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।যদি ইউএস অফিস মাধ্যমে পেমেন্ট পৌঁছানোর দুটি উপায় রয়েছে-
চেক সার্ভিসের ক্ষেত্রে ২০০০ টাকা অতিরিক্ত লাগবে।
উদাহরনস্বরূপ, $৭৫ ডলারের চেকের জন্য ৭৫০০ টাকার সাথে আরো ২০০০ টাকার লাগবে।
ইউএসএ অফিসে অনুরোধ অনুসারে $১২ ডলার অতিরিক্ত পে-এর মাধ্যমে আপনার কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়ে চেক পাঠানো যাবে।
নোট: টেক্সাস অফিস থেকে ‘ব্যাংক অব আমেরিকা’ ইস্যু করা হয়।
জি আর ই পেয়িং সিস্টেম (টেলিফোনের মাধ্যমে)
উল্লে্খ্য যে, ফোনের মাধ্যমে ক্রেডিক কার্ড ইনফরমেশন সবসময় প্রতারণার ঝুঁকি থাকে। আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে যে আপনি টেলিফোন ব্যতিত অন্য কোন মাধ্যমে পেমেন্ট করেননি। বাংলাদেশের একমাত্র জি আর ই সেন্টার এ সার্ভিস দিয়ে থাকে।ফোনের মাধ্যমে জি আর ই এএসআর অর্ডার প্লেসিং-এর জন্য
এই সেবা পেতে লাগবে
টোফেল একাউন্ট ইউজারনেম
একাউন্ট পাসওর্য়াড
আপনি যে তারিখের পরীক্ষার স্কোর পেতে চান সেই তারিখ (টোফেল ছাড়া অন্যদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়)
এরপর…
জি আর ই সেন্টার আপনার টোফেল কপির জন্য অনলাইনে পেমেন্ট করবে।
ইটিএস সাধারণত ১৪ দিনের ভিতর টোফেল পেপার পাঠিয়ে থাকে। অর্ডারের দিন থেকে ৫ দিনের ভিতর এবং সর্বোচ্চ ১ মাসের অর্ডার এবং রিসিপ্ট কার্যক্রম সম্পাদন করা হয়।
ইউএস অফিসে স্কোর কার্ড পোঁছানোর পর ৩ দিনের ভিতর ফেডেক্স কুরিয়ারের মাধ্যমে ঢাকায় পাঠনো হয়।
ঢাকা অফিস থেকে পেপার কপি সংগ্রহ করতে হবে।
নোট: জি আর ই স্কোর পেপার ইউএসএ অফিস থেকেও সংগ্রহ করা যাবে। নিন্মলিখিত তথ্যগুলোর জন্য ইটিএস হেড কোয়াটার থেকে কল করা হয়-
জি আর ই রেজিস্ট্রেশন অনলাইন কনফার্মেশন অথবা রেজিস্ট্রেশন নাম্বার
নামের প্রথম, মধ্যম এবং শেষ অংশের জন্য
জন্ম তারিখ
লিঙ্গ
ই-মেইল
ঠিকানা লাইন-১
ঠিকানা লাইন-২
সিটি/শহর
জিপ/পোষ্টাল কোড
ফোন নং
অতিরিক্ত ফোন নং
জি আর ই-এর তারিখ
ভার্বাল, কোয়ানটিটেটিভ এবং রাইটিং সেকশনের স্কোর
ই-মেইল আইডি
মাই জি আর ই ইউজার নেম
মাই জি আর ই পাসওয়ার্ড
জি আর ই (GRE) –এর অনন্যতা
প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতির সাথে জি

GRE নিয়ে আরো বিস্তর জানার জন্য আমাদের ব্লগে চোখ রাখুন আশা করি আরো অনেক কিছু জানতে পারবেন

শুন্য থেকে জিআরই (GRE) প্রস্তুতি ০১

February 22, 2020

শুন্য থেকে জিআরই (GRE) প্রস্তুতি ০১ বাইরের পড়াশোনার জন্য অনেক রকমের পরীক্ষা রয়েছে.…

GRE মডিউল

February 22, 2020

মোটামুটি সবাই জানেন GRE পরীক্ষায় মুলত দুইটা মডিউল থাকে। কোয়ান্টিটেটিভ (নবম-দশম শ্রেনীর অঙ্ক)…